ভর্তি চলছে...

মেকানিক্যাল টেকনোলজি

মেকানিক্যাল টেকনোলজিতে কেন পড়বেন ?

মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে আজকের আধুনিক উন্নয়নের অংশীদারিত্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রস্তর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পর্যায়ক্রমিক যান্ত্রিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। প্রবাদে আছে, যেখানে চাকা ঘোরে সেখানেই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান বিদ্যমান থাকে। বর্তমান সভ্যতার যুগে সকল আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য মেকানিক্যাল টেকনোলজির অবদান অনসিকার্য এবং এর গুরুত্ব চিরকাল অব্যাহত থাকবে। ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স , কম্পিউটার, টেক্সটাইল, সিভিল টেকনোলজি এর সিংহভাগ মেকানিক্যাল টেকনোলজির সাথে কোন না কোন ভাবেই জড়িত। মেকানিক্যাল টেকনোলজি থেকে ব্যবহারিক কাজ শিখে কর্মসংস্থান করা সম্ভব। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং বর্তমান সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারগণ ক্রমাগত ভাবেই অবদান রেখে চলেছে। বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত আমাদের এই ক্ষুদ্র বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে মেকানিক্যাল টেকনোলজির অবদান অপরিসীম

মেকানিক্যাল টেকনোলজির আর্থ সামাজিক অবস্থা

কারিগরি শিক্ষা বিভাগের অধীনে অনেক গুলো বিভাগ রয়েছে, তার মধ্যে মেকানিক্যাল বা যন্ত্রোকৌশল বিভাগ অন্যতম। মেকানিক্যাল বিভাগে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক বা হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। মেকানিক্যাল বিভাগে ব্যবহারিক শিক্ষার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মেশিন যেমনঃ-লেদ মেশিন,শেপার মেশিন,মিলিং মেশিন,গ্রাইন্ডিং মেশিন,ওয়েল্ডিং মেশিন এছাড়া আরও অনেক ধরনের মেশিনের বাস্তব কাজের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।এই সকল ব্যবহারিক বা হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদী কোর্ষ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং ঐ সকল শিক্ষার্থী তাদের কারিগরি শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে শিল্পের ব্যাপক উন্নতি সাধিত করে থাকে।এর ফলে শিল্প-কারখানা গুলো আর্থিকভাবে লাভবান হয়।অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হয়।এছাড়া কেউ যদি মনে করে যে,সে অন্যের অধীনে চাকরি না করে নিজেই কিছু করবে,সে ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী-এই কারিগরি শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে স্বল্প কিছু মেশিণ সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেই ছোটখাটো ওয়ার্কশপ দিতে পারে এবং এই ওয়ার্কশপে নিজের কারিগরি শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ করে বিভিন্ন গ্রাহকের চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। যেহেতু ওয়ার্কশপের মালিক একজন হওয়ায় ওয়ার্কশপে কাজের সকল উপার্জিত অর্থ মালিক নিজেই ভোগ করতে পারে।এছাড়া মালিক ইচ্ছ করলে কিছু কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে তার কর্মের পরিধি বাড়াতে পারে। ফলে কিছু লোকের কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হয় এবং সেই সাথে কিছু মানুষের আয়ের পথ সৃষ্টি হয়।তাই অবশেষে বলা যায় কারিগরি শিক্ষার অধীনে মেকানিক্যাল বিভাগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপকভাবে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।


কর্মক্ষেত্র

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিগতভাবে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রকৌশল বিজ্ঞানের সুবিস্তৃত শাখায় মেকানিক্যাল টেকনোলজির গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান বিশ্বের প্রকৌশল বিজ্ঞানের অন্যান্য টেকনোলজির পাশাপাশি মেকানিক্যাল টেকনোলজির সুবিশাল কর্মক্ষেত্র বিদ্যমান। বর্তমান বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাত, শিল্প খাত, পোশাক খাত ও শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে মেকানিক্যাল টেকনোলজি থেকে পাশকৃত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরির সুযোগ রয়েছে। এসকল কর্মক্ষেত্র গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলো হল- পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সহ বিভিন্ন পাওয়ার প্লান্ট, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, পল্লী বিদ্যুৎ, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন, আণবিক শক্তি কমিশন, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সমূহ, ভোকেশনাল স্কুল কলেজে কারিগরি বিষয়ে শিক্ষকতা, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ, গ্যাস ফিল্ড সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরির ক্ষেত্র রয়েছে। তাই আমাদের সকলের মেকানিকাল টেকনোলজির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনোলজিতে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

একজন শিক্ষার্থী-এই কারিগরি শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে স্বল্প কিছু মেশিণ সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেই ছোটখাটো ওয়ার্কশপ দিতে পারে এবং এই ওয়ার্কশপে নিজের কারিগরি শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ করে বিভিন্ন গ্রাহকের চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। এছাড়া ওয়ার্কশপের মালিক একজন হওয়ায় ওয়ার্কশপে কজের সকল উপার্জিত অর্থ মালিক নিজেই ভোগ করতে পারে।এছাড়া মালিক ইচ্ছ করলে কিছু কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে তার কর্মের পরিধি বাড়াতে পারে।


মেকানিক্যাল এ উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সমূহ

  • বিএসসি ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
  • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উচ্চ শিক্ষার জন্য পৃথক একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। ডুয়েট, গাজীপুর।
  • A.M.I.E কোর্সে ৪ (চার) বছরের বিএসসি ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সুযোগ আছে।
  • JUST ও SUST বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ (চার) বছর মেয়াদি বিএসসি ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ আছে।
  • এছাড়াও প্রস্তাবিত ৪ (চার)টি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় আছে।

শিক্ষকবৃন্দ

© CPI 2019