ভর্তি চলছে...

কম্পিউটার টেকনোলজি

ডিপার্টমেন্ট সম্পর্কে

ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং একটি ৪ বছর মেয়াদী ৮ সেমিষ্টারের কোর্স। বর্তমানে দেশের বাজারে অন্যতম জব সেক্টর হল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইসিটি নির্ভর।কম্পিউটার প্রকৌশল (ইলেক্ট্রনিক ও কম্পিউটার প্রকৌশল) একটি এমন একটি ফলিতবিদ্যা যাতে তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের উপাদানগুলো সু-সমন্বয় রয়েছে।

কম্পিউটার প্রকৌশলীদের ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল সফটওয়ার ডিজাইন ও হার্ডওয়ার-সফটওয়ার একত্রীকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ শিক্ষা ও দক্ষতা আছে। কম্পিউটার প্রকৌশলী কম্পিউটিং এর মাইক্রোপ্রসেসর, পার্সোনাল কম্পিউটার, এবং সুপারকম্পিউটার ডিজাইন থেকে শুরু করে সার্কিট ডিজাইন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। কম্পিউটার প্রকৌশলীর সাধারণ কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে সাধারণ ও বিশেষ কম্পিউটারের জন্য সফটওয়ার তৈরি করা, এমবেডেড মাইক্রোকন্ট্রোলারের জন্য ফার্মওয়ার লিখা, বিভিন্ন ভিএলএসআই চিপ ডিজাইন, বিভিন্ন এনালগ সেন্সর ডিজাইন, বিভিন্ন সার্কিট বোর্ড ডিজাইন এবং অপারেটিং সিস্টেম ডিজাইন প্রভৃতি। কম্পিউটার প্রকৌশলীরা রোবোটিক্স গবেষণার জন্য উপযুক্ত, যা বিভিন্ন তড়িৎ সিস্টেম যেমন মোটর, যোগাযোগব্যবস্থা, সেন্সর প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল সিস্টেমের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ভার্চুয়াল জগতের এই পৃথীবিতে মানুষ দিন দিন কম্পিউটার নির্ভর হয়ে পড়ছে ফলে বাড়ছে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাশ করা দক্ষ প্রকৌশলীদের চাহিদা।

কর্মক্ষেত্র

হাতে-কলমে বাস্তবমুখী শিক্ষার নাম কারিগরি শিক্ষা। এটি সময় উপযোগী শিক্ষা, এতে শিক্ষিত হয়ে গড়তে পারেন স্বপ্নের ক্যারিয়ার। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ালেখা করে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মদক্ষতা। আপনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে ঢুকে শুরুতেই আট হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। পাওয়ার হাউস, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি, টেক্সটাইল, সিরামিকের বিভিন্ন কলকারখান, টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিংস রিচার্স ইন্সটিটিউট, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, রাজউক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুযোগ রয়েছে। পেশা জীবনে সফলতার পূর্ব শর্ত হল কর্মদক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও কাজের প্রতি মনোযোগ। এসব গুণ নিয়ে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ধাপে ধাপে উন্নতি করতে পারে। এখানে পড়ালেখা করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত যেতে পারেন।

  • দেশে বিদেশে Computer Software Company গুলোতে Assistant Programmer পদে চাকরির সুযোগ আছে।
  • সরকারি বেসরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের Hardware Engineering and Assistant Networking Administrator পদে প্রচুর চাকরির সম্ভাবনা আছে।
  • বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংক গুলোতে Maintenance and IT Officer পদে চাকরির সুযোগ আছে।
  • বিভিন্ন Print Media and Electronics Media তে Graphics Designer, Hardware Engineering, Animation, Programmer and Network Engineering পদে প্রচুর চাকরির সুযোগ আছে।
  • বর্তমানে যে কোন মোবাইল কোম্পানি ও ওয়ার্লেস কোম্পানিতে প্রচুর চাকরির সুযোগ রয়েছে।
  • সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক গুলোতে জুনিয়ার ইনস্ট্রাক্টর পদে ও ভকেশনাল ইনস্টিটিউট গুলোতে ইনস্ট্রাক্টর পদে অসংখ্য চাকরির সুযোগ রয়েছে।

সিটি পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে কম্পিউটার বিভাগে কেন ভর্তি হবেন?

সিটি পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে কম্পিউটার বিভাগের জন্য রয়েছে আলাদা ৩ টি ভিন্ন ভিন্ন কম্পিউটার ল্যাব। যা একটি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাবশ্যক। এর সাথে সাথে সিটি পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে রয়েছে কম্পিউটার বিভাগের জন্য ৪ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক, যারা সবাই বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাবহারিক কাজে দক্ষ। আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য আমাদের রয়েছে ইলেকট্রনিক্স ও মাইক্রোপ্রেসেস- মাইক্রোকন্ট্রোলার ল্যাব। এছাড়া সিটি পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে রয়েছে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জন্য বিভিন্ন বই সম্বলিত সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। এখানকার কম্পিউটার বিভাগ থেকে পাশকৃত শিক্ষার্থীরা দেশের অনেক নামকরা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাল পজিশনে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বাস্তব সম্মত শিক্ষা প্রদানের জন্য থিওরী ও ব্যবহারিক ক্লাসের পাশাপাশি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ট্যুর ও প্রজেক্ট ভিত্তিক শিক্ষা দেয়া হয়।


বিভাগীয় প্রধানের বানী

বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়নের অংশীদার হতে হলে এবং এর সুফল পেতে হলে দক্ষ জনশক্তি গঠন অবশ্যই প্রয়োজন। আর সে লক্ষ্যেই সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সংযোজন একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে সেদিন জন্ম হয়েছিল সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর। আর তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পথচলা। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও সহযোগিতার সাথে আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টাই আগামী দিনে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষায় পরিণত করবে এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। বহুল জনসংখ্যাপূর্ণ আমাদের এই দেশে কারিগরি শিক্ষাই পারে অবস্থার উন্নতি ঘটাতে এবং উন্নত দেশসমূহের কাতারে সামিল করতে। সেদিন হয়তো আর বেশি দূরে নয় যেদিন আমরা চাকুরী প্রত্যাশী নয় বরং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একেকজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সবল রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে নিজেদেরকে তুলে ধরব নতুন আঙ্গিকে নতুন চেতনায়। শুধু তাই নয় নেতৃত্বে কারিগরি শিক্ষার্থীরা থাকবে অগ্রভাগে। তাদের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল চিন্তা-আবিস্কার জীবনযাত্রায় আনবে স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবর্তন। সময়ের পরিবর্তনের ধারায় আমরা থাকব প্রথম সারিতে। প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মব্যস্ততায় আমাদের জীবন হয়ে উঠবে উপভোগ্য আর নৈতিকতায় থাকব আপসহীন। চিরমহান মঙ্গলময় সৃষ্টিকর্তার নিকট এমনই প্রার্থনা ও সমর্পণ রেখে কৃতজ্ঞতায় অন্তর পূর্ণ হোক।

মোঃ নাজমুল হুদা
বিভাগীয় প্রধান
কম্পিউটার টেকনোলজি
সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট খুলনা


শিক্ষকবৃন্দ

© CPI 2019